Sunday, July 26, 2015

← নিজের থেকে গুনি কথা →

সব কাজের পিছনে না লেগে একটি কাজকেই প্রাধান্য দিন, কাজটিও সহজ হবে, আর সফল তো হবে নিশ্চয়। মহাজ্ঞানীরা সব কাজ একসাথে করে না বরং একটিতে সফল হলে তার পর অন্য কাজে নিয়োজিত করে নিজেকে। কোন কাজকে ছোট করে দেখবেন না, আর সময়ের মুল্য দিন। ভাগ্য কেউ পালটে দিতে পারে না যদি না সে নিজে নিজের ভাগ্য বদলাতে পরিশ্রম করে। পরিশ্রম করে দুটাকা রোজকার করলেও এটা গৌরবের অন্যের হাজার টাকা দানের চেয়ে। নিজের আত্মবিশ্বাস কে কাজে লাগান, পারবেন না বলে থেমে থাকবেন না, বরং পারবেন বলেই এগিয়ে যান, তখন আপনার আত্মবিশ্বাসের বলেই বিজয় হবেন। কাউকে হেয় করার চেষ্টা করবেন না, তাহলে কোন একসময় নিষচয় আসবে সমাজ আপনাকে হেয় করবে। ভালো কাজে ছোটদের উৎসাহ দিন, তখন দেখবেন আপনার ভালো কাজে অন্যরা প্রশংসা করছে। বাবর চৌধুরী

Thursday, May 28, 2015

→পবিত্র শবে বরাত এর ফযিলত ←

শবে বরাত এর বিশ্লেষণ :- আরবী ১২মাসের অষ্টম মাস তথা শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটি কোরানের ভাষায় "লাইলাতুল মুবারাকাহ"। আর হাদীসের ভাষায় অর্ধ শাবান রজনী, তাফসীরের ভাষায় মুক্তীর রজনী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর আমাদের উপমহাদেশে যাকে শবে বরাত বলে আমরা পরিচিত যেটা ফারসি ভাষা থেকে উদ্ভুত। যা শব বা রাত ও বরাত বা পবিত্রতা, নাযাত, মুক্তী, ত্রান ইত্যাদি। অর্থাৎ পবিত্র মুক্তী ও পরিত্রানের রজনী। মুফাসসের গন এ রাতের ১২ টি নাম দিয়েছেন- পাপ মুক্তীর রজনী, বরকতের রজনী, বন্টনের রজনী, গুনাহের কাফফারা রাত, দোয়া কবুলের রাত, ফেরেশতা দের ঈদের রাত, প্রতিদানের রাত, সুপারিশের রাত,ক্ষমার রাত, সম্মানের রাত, পুন্যের পাল্লা ভারির রাত, দোযখ থেকে মুক্তীর রাত। আল্লামা কুরতবী তার গ্রন্থে বলেন এ রাতের ৪ টি নাম রয়েছে- ১. লাইলাতুল বরাত, ২. লাইলাতুল মুবারাকাহ, ৩. লাইলাতুস সাকী, ৪. লাইলাতুল ক্বাদ্রী। এছাড়া তাফসীরে রুহুল মায়ানীর ২৪ শ খন্ড ১৭৪ পৃ: উল্লেখ্য রয়েছে এ রাতে সারা বছরের বাজেট জীবিত মৃত দের তালীকা এবং হাজীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। উক্ত সংখ্যা থেকে একজন বাড়েও না কমেও না। হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সা: বলেন মধ্য শাবানের রাত্রীতে মহান আল্লাহ রহমতের ভান্ডার নিয়ে তার সকল সৃষ্টির প্রতি এক বিশেষ ভূমিকায় আবিভূত হন, এবং এ রাত্রীতে মুশরীক এবং হিংসুক ব্যাক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন, হযরত আবু মুসা আল আশয়ারী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল [সা:] ইরশাদ করেছেন মহান আল্লাহ নিসফে শাবানের রাতে আবিভূত হন। সেই রাত্রীতে মুশরীক অথবা হিংসুক ছাড়া সকলকেই ক্ষমা করে দেন। এ হাদীস টি শবে বরাতের আরেকটি হাদীস মুবাশশার বিল জান্নাত হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নিসফে শাবান রাত তথা শবে বরাত যখন আগমন করে তখন আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতরন করেন, অতঃপর তিনি তার বান্দাহদের ক্ষমা করে দেন। তবে যে ব্যাক্তি শিরক ও আপন ভাইয়ের সাথে হিংসা বিদ্বেশ করে তাকে ক্ষমা করেন না। হযরত আলী ইবনে আবী তালীব (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন যখন শাবান মাসের মধ্য রাত্রীর আগমন ঘটে তখন তোমরা সেই রাত্রে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত কর এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা সেদিন সূর্যাস্তের পর প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন কোন প্রার্থনাকারী কী আছো? আমি থাকে ক্ষমা করবো, কোন রিযিক তালাশকারী আছো কী? আমি আজ তাকে রিযিক দিবো। কোন বিপদগ্রস্ত আছো কী? আমি আজ থাকে বিপদ থেকে মুক্ত করে দিবো। এভাবে ভোর পর্যন্ত মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ঘোষনা অভ্যাহত থাকে। তাই কোরান ও হাদীসের আলোকে শবে বরাতের আমল করা আমাদের একান্ত উচিত।

Saturday, May 16, 2015

→ লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজ রজনী প্রসঙ্গে ←

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী যা সচরাচর শবে মেরাজ নামে আখ্যায়িত। ইসলাম ধর্ম মতে যে রাতে মহানবী (সা:) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহন করেছিলেন এবং মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন। মুসলমান রা এবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এ রাতটি উদযাপন করে। ইসলামে মেরাজের গুরত্ব অপরিসীম, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্বের দ্বীতিয় স্তম্ব অর্থাৎ নামাজ অত্যাবশ্যক বা নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ এর বিধান নির্দিষ্ট করা হয়। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মোহাম্মদ (সা) এর নবুওয়াতের একাদ্বশ বৎসরের (৬২০ খ্রী) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত নবী মোহাম্মদ (সা:) প্রথমে কাবা শরীফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকশায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাকে (বিশেষ বাহন) আসীন হয়ে উর্ধ্বালোকে গমন করেন। উর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করেন। এই সফরে হযরত জিবরাঈল (আ) তার সফর সঙ্গী ছিলেন। কোর আন শরীফের সুরা বনী ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে " সুবহানাল্লাযী আস্রা বি আবদিহি লাইলাম মিনাল মাসজিদিল হারামী ইলাল মাসজিদিল আকসা" বঙ্গানুবাদ : " পবিত্র সেই মহান সত্বা, যিনি তাহার এক বান্দাহ ( মোহাম্মদ সা:) কে মসজিদে হারাম ( কাবাঘর) হইতে মসজিদে আকশা ( বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত পরিভ্রমন করাইয়াছেন। ইহার মধ্যে তাহাকে অসংখ্য নির্দেশনা বলী দেখানো হইয়াছে।

Monday, April 20, 2015

→ সর্বস্ব হারিয়েও সতীত্ব রক্ষা ←

সতী সাধ্বী নারীর সম্ভ্রম হরণ করা যায় না। তার সম্মান নষ্ট করা যায় না। সতীত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে সে জীবন দিতেও কুন্ঠিত হয় না। খাত্তাবী তার বিখ্যাত গ্রণথ "আকাশের ইনসাফ" এ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ ; চল্লিশ বছর পূর্বে বাগদাদে এক কশাই ছিল। ফজরের আগেই সে দোকানে চলে যেত। সে ছাগল মেষ যবেহ করে সন্ধার আগেই বাড়ি ফিরে যেত। একদা ছাগল যবেহ করে বাড়ি ফিরছিল। তখন রাতের আধার কাটেনি। সে দিন অনেক রক্ত লেগেছিল তার জামা কাপড়ে। পথিমধ্যে সে এক গলির ভিতর থেকে গোঙ্গানি শুনতে পেল। সে গোঙ্গানি টা লক্ষ করে দ্রুত এগিয়ে গেল। হটাত সে একটা দেহের সাথে দাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। একজন আহত লোক পড়ে আছে মাটিতে। যখম ঘোরতর, বাচাতে হলে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তখনো দর দর করে রক্ত বের হচ্ছে। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ছুরিটা তখন দেহে গেতে আছে। দ্রুত সে ছুরিটা ঝটকা টানে বের করে ফেলল। তারপর লোকটিকে কাধে তুলে নিল। কিন্তু লোকটি পথে এবং তার কাধে মারা গেল। এর মধ্যেই লোকজন জড়ো হল। কশাইয়ের হাতে ছুরি। সদ্য মৃত লোকটির গায়ে তাজা রক্ত। এসব দেখে লোকজনের স্থীর ধারনা হল যে, সেই ঘাতক। অগত্যা তাকে হন্তারক হিসেবে অভিযুক্ত হতে হল এবং তাকে মৃত্যু দন্ডে আদেশ দেয়া হল। যখন তাকে ক্বিছাছ এর জায়গায় আনা হল এবং মৃত্যু যখন অবধারিত। তখন সে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলে উঠল, হে উপস্থিতি জনতা! আমি এই লোকটিকে মোটেই হত্যা করিনি। তবে আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি অপর একটি হত্যা কান্ড সংগঠিত করেছিলাম। আজ যদি আমার মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়, তবে এই ব্যাক্তির হত্যাকান্ডের জন্য নয়। বরং সেই হত্যা কান্ডের জন্য হতে পারে। অতঃপর সে বিশ বছর হত্যাকান্ডের বিবরণ শুরু করলো। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি ছিলাম এক টগবগে যুবক। নৌকা চালাতাম। লোকজনকে পারাপার করতাম। একদিন একধনবতি যুবতী তার মাকে নিয়ে আমার নৌকায় পার হল। পরদিন আবার তাদেরকে পার করলাম। এভাবে প্রতিদিন আমি তাদেরকে আমার নৌকায় পার করতাম। এপারাপারের সুবাদে যুবতী মেয়েটার সাথে আমার আন্তরিকতা গড়ে উঠল। অপর ধীকে দীরে দীরে আমরা একে অপরকে ভাল বাসতে শুরু করলাম। একসময় আমি তার পিতার নিকট বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মত দরীদ্র একমাঝির কাছে বিয়ে দিতে তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সেও এদিকে আর আসতো না, সম্ভবত মেয়েটির বাবা নিষেধ করে দিয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেও ভুলতে পারলাম না। এভাবে কেটে গেল ২-৩ বছর। একদিন আমি নৌকা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় একমহিলা ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে গাটে উপস্থিত হল এবং আমাকে নদী পার করে দিতে অনুরোধ করলো। আমি তাকে নিয়ে রওয়ানা হলাম। মাঝ নদীতে এসে তাকালাম তার চেহার দিকে। চিনতে দেরী হল না যে, এ আমার সেই প্রেয়সী। এর পিতা আমাদের মাঝে বিচ্ছেদের পর্দা টেনে না দিলে সে আজ আমার স্ত্রী থাকতো। আমি তাকে দেখে খুশী হলাম। বিভিন্ন মধুময় স্মৃতির ডালি একে একে তার সামনে মেলে ধরতে লাগলাম। সে প্রতি উত্তর করছিল খুব সতর্কতার সাথে এবং বিনয়ের সাথে। পরক্ষনেই সে জানালো যে, সে বিবাহিতা এবং সঙ্গের শিশুটি তার সন্তান। আমার মন বড় অস্থির হয়ে গেল। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারলাম না। একটা অশুভ ইচ্ছা আমায় তাড়া করলো। এক পর‍্যায় যৌন পিপাসা নিবৃত্ত করার জন্য আমি তার উপর চাপা চাপি শুরু করলাম। সে আমাকে মিনতি করে বলল, আল্লাহকে ভয় কর! আমার সর্বনাশ করনা। আমি মানলাম না। আমি ফিরলাম না। তখন অসহায় নারীটি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে লাগলো। তার শিশু কন্যা টি চিৎকার করতে লাগলো। আমি তখন তার শিশু কন্যা টিকে শক্ত হাতে ধরে বললাম, তুমি আমার আহবানে সাড়া না দিলে আমি তোমার সন্তানটিকে পানিতে ডুবিয়ে মারবো। তখন সে কেদেঁ উটলো। হাত জোর করে মিনতি জানাতে লাগলো। কিন্তু আমি এমনই অমানুষে পরিনত হলাম যে, নারীর অশ্রু ও কান্না কিছুই আমার প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করার চেয়ে মুল্যবান মনে হলনা। আমি নিষ্ঠুর ভাবে কন্যা সন্তানটির মাথা পানিতে চেপে ধরলাম। মরার উপক্রম হতেই আবার বের করে আনলাম। বললাম, জলদি রাযী হও। নইলে একটু পরেই এর লাশ দেখবে। কিন্তু যুগপৎ সন্তানের মায়ায় এর সতীত্বের ভালাবাসায় বিলাপ করে কাদতেঁ লাগলো, যা আমার কাছে ছিল অর্থহীন ও মুল্যহীন। আমি আবার মেয়েটিকে চেপে ধরলাম। শিশুটি হাত পা নাড়ছিল। জীবনের বেলা ভুমিতে আরো অনেক দিন হাটার স্বপ্নে দ্রুত হাত পা ছুড়ছিল। কিন্তু ওর জানা ছিলনা কেমন হিংস্রের হাতে পড়েছে সে। এবার আমি তার মাথাটা তুলে আনলাম না। ফল যা হবার তাই হল। কিছুক্ষনের মধ্যেই শিশুটি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আমি এবার থাকালাম তার দিকে। কিন্তু মেয়ের করুন মৃত্যু ও তাকে নরম করতে পারলো না। সে তার সিদ্ধান্তে অনড়, অবিচল। তার দৃষ্টি যেন বলছিল, সন্তান গেছে প্রয়োজনে আমি যাব। জান দেব, তবু মান দেবনা। কিন্তু আমার মানুষ সত্তা হারিয়ে গিয়েছিল। বিভেক সত্তা গুমিয়েছিল গভীর সুপ্তির কোলে। আমার মাঝে রাজত্ব করছিল আমার পশু সত্তা। আমি নেকড়ের মত তার দিকে এগিয়ে গেলাম। চুলকে মুষ্টি বদ্ধ করলাম। তার পর তাকে ও পানিতে চেপে ধরলাম। বললাম, ভেবে দেখ জলদি, জীবনে মায়া যদি কর তবে আবার ভাব। সে ঘৃনা ভরে না করে দিল। আমি ও তাকে চেপে ধরলাম। একসময় আমার হাত ক্লান্ত হয়ে এল।সাথে সাথে তার দেহটা ও নিথর হয়ে গেল। আমি ওকে পানিতে ফেলে ফিরে এলাম। খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলো না। মহান সেই সত্তা, যিনি বান্দাকে সুযোগ দেন। কিন্তু ছুড়ে ফেলে দেন না। এই করুন কাহীনী শুনে উপস্তিত সবার দৃষ্টি যাপসা হয়ে এল। এরপর তার শিরোশ্চেদ করা হল। এ ঘঠনার উজ্জল প্রমান যে, সতীত্ব ও স্মভ্রম। রক্ষায় সতী সাদ্ধী নারীরা কত আপোষহীন? নিজের মেয়ে নিজের চোখের সামনে জীবন দিল।, তবুও সে আপোষ করলনা। নিজের জীবন দিল। তবুও নিজের মান সে বিলিয়ে দিলনা তার সতীত্ব ও সম্ভ্রমের গায়েঁ একটা কাটা ও ফুটতে দিলনা।

Saturday, April 18, 2015

→ কিয়ামতের সামান্য দৃশ্য ←

মানুষের হায়াত মউত আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত। যার যত দিন হায়াত আছে সে তত দিন পৃথিবীতে বসবাস করবে। আবার যার যেখানে যে অবস্থায় মৃত্যু নির্ধারিত আছে তাকে সেখানে সে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষের কোন হাত নেই। কিন্তু পৃথিবীতে কোন কোন সময়ে মানুষের এমন অবস্থায় মৃত্যু ঘঠে যা বিভেক বান সকলের হ্রিদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। ঘঠনার আকস্মিকতায় বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়ে অনেকেই। নিজের অজান্তেই চোখের কোনা থেকে তপ্ত অশ্রু ঘড়িয়ে পড়ে। ধৈরয ধারন করা অতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সবকিছু মেনে নিতে হয়। কিন্তু হ্রিদয়ে যে ক্ষত হয় তা রয়ে যায়। কখন ঐ ঘঠনা স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলে ডুকরে কেদে ওঠে মন। এমনই বিষয় তুলে ধরতে নিম্নের ঘঠনার অবতারনা। আমরা সাগর কুলের মানুষ। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকুলতা সহ্য করেই আমাদের বেচে থাকা। বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের চলা। আমাদের বিপদ মূহুত্র এর একটি হ্রদয় বিদারক সত্য ঘঠনা আমি ব্যাক্ত করতে যাচ্ছি। আমি তখন তরুন ছিলাম। একদিন দেখি আকাশে খুব মেঘ। ভাবলাম ঝড় হতে পারে। পরিবারের সবাইকে হুশিয়ার করে দিলাম। সবাই বাইরে দাড়িয়ে আছি। হটাত দেখি সাগরের দিক থেকে বিরাট জলোচ্ছাস ৩৫-৪০ ফুটের বেশি উচুঁ হয়ে ছুটে আসছে। তখন ভাবলাম বাচার আর কোন উপায় নেই। সবাইকে জোড়ে আকরে ধরেছিলাম ৭-৮ বছরের একটি ছেলে আমার কাধেঁ ছিল। পানি এতো জুড়ে দাক্কা দিল যে ছেলেটা ছাড়া আর সবাই হাড়িয়ে গেল। তখন আমরা অনেক পানির নীচে। পানি আমাদেরকে অনেক দুরে নিয়ে গেছে। যখন পানির উপরে উঠলাম তখন কোথাও কোন ঠাই নেই। কোথাও কোন গাছ বা উচুঁ কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটা তখন কাধঁে গলা ধরে আছে। অকে বললাম আব্বা তুমি দুহাতে আমার গলা জড়িয়ে ধর, ছেড়না যেন! তাহলে ডুবে যাবে। ছেলেটি কাদছে আর বলছে, আব্বা তুমি আমাকে ফেলে দিও না। তাহলে আমি ডুবে যাবো। তখন আবার ডেউ চলছে ২-৩ ফুট উচু হয়ে। আমরা সেই ডেউয়ে ডুবে যাচ্ছি। পানি খেয়ে আবার উপরে উঠছি। ছেলেকে কাধেঁ নিয়ে আধা ঘন্টার মত খুব কষ্টে সাতার কাটলাম। কোথাও কোন ঠাই দেখা যায় না। তখন ভাবছি আর বোধ হয় বাচতে পারবোনা। জীবন যায় যায় অবস্থা। মনে মনে ভাবছিলাম ছেলেটা যদি গলা ছেড়ে ডুবে যেত তাহলে হয়তো নিজে বাচতাম। পরে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বলেদিলাম, তুই আমার গলা ছেড়ে দেয়। ছেলে তখন কেদেঁ ফেলল। আর কাদতে কাদতে বলল আব্বা, তুমি আমাকে ছেড়ে দিওনা আমি ডুবে যাবো। বার বার বলার পরেও যখন ছেলেটি গলা ছাড়ছে না তখন আমি হাত ধরে টান দিই। ছেলেটি আর জুড়ে কাদেঁ ও গলা জড়িয়ে কাদেঁ। আমরা দুজনের কেউ মরতে চাইনা। আবার কেউ বাচতেও পারছি না। ( এমন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে কল্পনা করুনতো, কেমন লাগে।) এটা ছিল মৃত্যুর পূর্বের বয়াবহ অবস্থা। ছেলের কান্নাতে আমার আর মায়া হলনা। আমি ওর হাত টেনে কামড়িয়ে ধরলে, সে আমার গলা ছেড়ে দেয়। সাথে সাথে ছেলেটি ডুবে যায়। পানির অনেক নীচে চলে যায়। তখন মনে বললাম বেচে গেছি। এর মাত্র পাচঁ মিনিট পর আমার পায়ে উচুঁ গাছের ডাল লাগলো। আমি তার উপরে দাড়ালাম। সাথে সাথে ছেলেটির হ্রদয় বিদীর্ণ কারী কান্না জড়িত কথা কানে ভেসে আসলো। চোখে বাধ ভাঙ্গা অশ্রু নেমে এল। তখ ভাবছি এইতো ঠাই পেলাম তবে কেন আমার ছেলেটাকে পানিতে ফেলে দিলাম। একি করলাম আমি। এইটুকু সময় আমি থাকে ধরে রাখতে পারলাম না। কত বড় ভুল হয়ে গেল। আমি সেখানে দাড়িয়ে জায়গাটাও বুঝতে পারছি। পানি সরে গেলে ওখানে লাশ পাওয়া যাবে। দেড় দিন পর পানি সরে গেল আমি গাছে ছিলাম। একটু ক্ষুধাও লাগেনি। ঘুম ও আসেনি। তারপর ছেলের সেখানে লাশ পেয়ে আর কষ্ট হল। যে কষ্ট আমি আজও বুলতে পারছিনা। আমার এখন কয়েকটা ছেলে মেয়ে। বয়স ৬০ বছর। তবুও ঐ স্মৃতি আমায় পাগল করে দেয়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি,দুনিয়ায় এ অবস্থা হলে কিয়ামতের দিন কী অবস্থা হবে? যেখানে কোন দিন মরন হবে না। কেউ কাউকে সাহায্য করবে না। দুনিয়ার এই ক্ষনস্থায়ী জীবনে মানুষ নিজেকে বাচাতে যদি কলিজার টুকরো প্রানাদিক প্রিয় সন্তানকে ছুড়ে দিতে পারে তাহলে কিয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ কী করবে সেটা চিন্তার বিষয়। যে দিবসের বিবরণ দিতে মহান আল্লাহ বলেন যেদিন ঐ বিকট ধ্বনী আসবে সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার নিজের ভাই হতে, তার মাতা, পিতা ও তার স্ত্রী সন্তান হতে, সেদিন তাদের প্রত্যেকের একটি চিন্তা থাকবে যা তাকে ব্যাতি ব্যাস্ত করে রাখবে। (আবাসা ৩৩-৩৭) অতএব সচেতন মানুষ মাত্রই ঐ জীবনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহন করা আবশ্যক। পার্থিব জীবনে সঠিক প্রস্তুতি তথা সৎ আমল করতে না পারলে পরকালীন জীবনে কোন আপনজন কাজে আসবে না। বরং সেদিন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে। একান্ত আপনজন ও পরিচয় দিবে না। কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে পরিত্রানের জন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করেন। আমীন। [ উপরোক্ত কথা গুলো লিখে পাঠিয়েছেন আমার এক বন্ধু ময়মনসিংহ থেকে]

→ পুরুষরা লজ্জা শীল ←

একদিন এক বাড়িতে স্থানীয় কয়েকজন ইসলাম প্রিয় নারী দ্বীনি আলোচনা শোনার জন্য জমায়েত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার এক পর‍্যায় একজন বলেছিলেন, আজকাল মহিলাদের চেয়ে পুরুষের লজ্জা বেশি। কথা টা শেষ না করতেই একজন দাড়িয়ে ভদ্র মহিলা উঠে প্রতিবাদের সুরে বললেন আমি আপনার একথাটি মানতে পারলাম না। পুরুষ মানুষের আবার লজ্জা দেখলেন কোথায়? ওরা তো বেশরম বেলাজ..... মহিলা তখন আলোচনা বন্ধ করে বললেন, আপা আপনি কি করেন? তখন মহিলাটি বলল আমি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। আলোচক মহিলা তখন জানতে চাইলেন আপনার প্রতিষ্টানে কয়জন পুরুষ ও কয়জন মহিলা শিক্ষক আছেন? তখন মহিলা বলল সমান সমান। তখন তিনি বললেন, আপনি কি কোন দিন পুরুষ শিক্ষকের পেট পিঠ দেখেছেন? প্রতিবাদ কারী নিশ্চুপ। আলোচক মহিলা বললেন দেহ প্রদর্শন করা নির্লজ্জতা। কিন্তু এ কাজ টা সাধারনত পুরুষ রা করে না। আপনার যদি কখনো ইচ্ছে হয়, আপনার কোন পুরুষ সহকর্মী এর পেট পিঠ দেখবেন তাহলে তাকে আহবান করে বলতে হবে ভাই আপনার শার্ট বা পাঞ্জাবীটা একটু উপরে উটান, আমি আপনার পিট বা পেট একটু দেখবো। সে ভাই অবশ্যই আপনাকে পাগল মনে করবে। আর আপনার পেট পিট কতভাবে কত এ্যাংগেলে কত শত নারী পুরুষ দেখছে, তার কী কোন হিসাব আছে? পুরুষরা পেট পিট বের করে বাইরে বা অফিস আদালতে যাবে না। এটা তাদের স্বাভাবিক লজ্জা। যা থাকা উচিত ছিল মেয়েদের। অথচ ব্লাউজের মেয়েরা কিভাবে জামা বা গলাটা আরেকটু বড় করে কাধঁ ও বুকের উপরি অংশে বের করা যাবে। সে চেষ্টাই করে। এ পর‍্যায় বেচারা ভদ্র মহিলা একে বারে চুপ হয়ে গেল।

→ ইমাম আবু হানিফা রহ: এর সাথে কিছু নাস্তিকদের বিতর্ক ←

গল্পটি অনেক আগের। একবার একদল নাস্তিক ও তাদের নেতারা একজন বিখ্যাত মুসলীম নেতার ( ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর সাথে বিতর্ক অনুষ্টানের জন্য আহবান জানালেন। যদিও ইমাম আবু হানিফা রহঃ বিতর্ক করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তবুও তিনি রাজি হলেন। বিতর্কের বিষয় এই পৃথিবীর সব কিছু কারো সাহায্য ছাড়াই এমনিতেই তৈরি হয়েছে? নাকি হয়নি? অনুষ্টানের দিন সবাই উপস্তিত। শুধু মাত্র ইমাম আবু হানিফা রহঃ ব্যাতিত। সমলেই অপেক্ষা করছে ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর জন্য। কেননা তিনি মুলত বিতর্ক করবেন মুসলীম দের জন্য। সকলেই অপেক্ষা করছেন। অথচ তার কোন দেখা নেই। একদিকে নাস্তিক রা মনে মনে খুশি হতে লাগলো। অন্যদিকে মুসলীমরা লজ্জাবোধ করছিলো তাদের নেতা অনুপস্থিত থাকার জন্য। অনেকেই দরে নিয়েছেন তিনি আর আসবেন না পরাজয়ের ভয়ে। একটি সময় সকলে সিদ্ধান্ত নিল অনুষ্টান শেষ করে দিতে হবে। ঠিক তখনই তিনি উপস্থিত হলেন। মঞ্চে উঠার পর সকলে থাকে জিজ্ঞেস করল কী কারনে আপনার আসতে এত দেরি হল। তিনি একটু চুপ থেকে বললেন আজ এক অবাক করার মত ঘঠনা ঘটেছে যা সত্যিই অবিশ্যাস্ব। আর একারনে আমার আসতে দেরি হয়ে গেল। সকলে ঘঠনা সম্পর্কে জানতে চাইলো। তিনি বললেন আমার ধারনা, তোমরা এই ঘঠনা জানার পর বিশ্বাস করবে না। অথবা আমাকে পাগল বলবে। এজন্য এই ঘঠনা আমি এই সমাবেশে বলতে চাই না। নাস্তিকদের দল নেতা বললেন, আপনার মত একজন বিজ্ঞ কখনও এমন এরকম কথা বলবে না, যাহার কোন গ্রহন যোগ্যতা নেই। নাস্তিক নেতা তাকে অনুরোদ করলেন ঘঠনাটি সকলকে বলতে। তার অনুরোধে মুসলীম পন্ডিত ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলতে শুরু করলেন। আজ বাড়ি থেকে যখন নদীর গাটে পৌছেছি, তখন দেখি নদীতে কোন নৌকা নেই। আশে পাশে ও লোকজন নেই। আমি দীর্ঘ ক্ষন অপেক্ষা করছি নৌকার জন্য। হটাত একটি বিকট আওয়াজ করে একটি গাছ নদীতে পড়ল। তারপর ছোট ছোট টুকরো হতে লাগলো। আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম। এরপর টুকরো গুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হতে লাগলো। কিছুক্ষনের ভিতর এটি একটি নৌকাতে পরিনত হল। অতঃপর নৌকাটি ধীরে ধীরে আমার ঘাটে আসতে লাগলো। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। যেহেতু ঘাটে নৌকা ছিলো না তাই সাহস করে নৌকায় উটে পড়লাম। নৌকাটি নিজে থেকে চলতে লাগলো ও আমায় নদী পার করে দিল। তারপর আমি হেটে চলে আসলাম। আর এসব ঘটনা ঘঠছিলো অনেক সময় ধরে। তাই আমার আসতে দেরি হল। নাস্তিকদের সকলে হুহু করে হেসে উঠলো। মুসলীমরা সবাই কানাকানি শুরু করলো। নাস্তিকদের দলনেতা বলেই ফেললেন আপনাকে কেউ কিছু খাইয়ে দিয়েছে কিনা।? নাস্তিক নেতা বললেন এমনি এমনি এরকম কিছু হওয়া কী সম্ভব? আপনিতো পাগলের মত কথা বলছেন। তখন ইমাম আবু হানিফা রহঃ বললেন আমি না হয় একটা পাগল হয়েছি কিন্তু আপনারা নাস্তিকরা একত্রে পাগল হলেন কিভাবে? আমি শুধু একটি গাছ হতে নৌকা হতে বললাম। আর আপনারা বলছেন এই মহা বিশ্বের চাদঁ, সূর্য, পৃথিবী, গাছ পালা, পশু পাখি সব কিছু এমনিতে সৃষটি হয়েগেছে। আর এভাবেই ইমাম আবু হানিফা রহঃ বিতর্ক এর ইতি টানলেন।